Templates by BIGtheme NET

তৈরী পোশাকের কার্যাদেশ হারাচ্ছে বাংলাদেশ লাভবান হচ্ছে ভারত

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর চীনে তৈরি পোশাকের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে লাভবান হচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বাংলাদেশে লাগাতার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাতিল হচ্ছে তৈরি পোশাকের কার্যাদেশ, আর এরই সুযোগ নিচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।

ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে কার্যাদেশ প্রত্যাহার করে ভারতীয় রফতানিকারকদের দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের। তারা বলছেন, এ দেশে একের পর এক অস্থিরতা ও চীনে পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের লাভবান করেছে। রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে দেশের পোশাকশিল্প টিকে থাকবে কি না, এ নিয়েও শঙ্কিত দেশীয় উদ্যোক্তরা।

বাংলাদেশে লাগাতার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং চীনে তৈরি পোশাক উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ১১ মাসে (এপ্রিল-ফেব্রুয়ারি) তৈরি পোশাক রফতানি থেকে এ দুটি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিপরীতে ভারতের আয় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য একটি প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায়, চলতি অর্থবছরে ভারতে পোশাক রফতানি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অনেক ক্রেতাই ভারতীয় পণ্য কেনায় আগ্রহী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুপচাপ রয়েছে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ১ হাজার ৫৩৮ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আর ভারতের পোশাক রফতানি আয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ১৩ হাজার ৪৫৬ মিলিয়ন ডলার চলতি অর্থবছরের ১১ মাসেই ছাড়িয়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৬২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত চীনে পোশাক শিল্পে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের রফতানি বাড়ছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের মতে, চীনে মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে পোশাক শিল্প ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রায় প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এখন ভারতীয় রফতানিকারকদের সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া বাংলাদেশ অনেক সস্তায় পোশাক তৈরি করে। মোটা দাগে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারা সম্ভব নয়। তবে চীনে মজুরি বৃদ্ধিকে ভারতীয় রফতানিকারকরা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই- ফেব্রুয়ারি) রফতানি খাতে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ২ হাজার ৩১ কোটি (২০ দশমিক ৩১ বিলিয়ন) ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশের বেশি। তবে বর্তমান অস্থিরতার প্রভাব আগামীতে পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুদের্শী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে পরিস্থিতি শান্ত হলে বাংলাদেশের পোশাক বিশ্বে এক নম্বরে থাকত। দেশে অস্থিরতার কারণে ক্রেতারা আসছেন না। তারা অন্য দেশে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক।

এদিকে তৈরি পোশাককল মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ সুমন বলেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কেবল ভারতের ব্যবসায়ীরা নন, প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। যেসব অর্ডার বাংলাদেশের আসার কথা, সেসব অর্ডার অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। সব দেশেরই রফতানি হার বাড়ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

teletalk

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful