Templates by BIGtheme NET

পুলিশের নামে ধর্ষণ মামলা : বিপাকে ধর্ষিতা

গাইবান্ধা: পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানী ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে বিপাকে পড়েছেন ধর্ষিতা নারীসহ ওই পরিবারের ৮ সদস্য। এদিকে পুলিশও মামলার বাদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। ফলে ধর্ষিতা ও নির্যাতিতা গৃহবধূসহ অন্য সদস্যরা এখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছেন প্রতিবেশীরা।

শুক্রবার ওই মামলার বাদী গৃহবধূ মনোয়ারা বাড়িতে গিয়ে এমনই অবস্থা দেখা গেছে। এদিকে ধর্ষিতা ওই নারীর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করার খবরে ধর্ষিতার বাড়ি মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন জুড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে গ্রামবাসী।

শুক্রবার সাংবাদিকরা ধর্ষিতার বাড়িতে গেলে গ্রামবাসী সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ যদি নারীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করে তাহলে আমরা কোথায় যাবো।’

গ্রামবাসীর অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করে আরো বেকায়দায় পড়েছেন নির্যাতিত নারী মনোয়ারাসহ কয়েকজন নারী। মামলার পর পুলিশ বাদী ও শ্লীলতাহানীর শিকার মনোয়ারা বেগম, হালিমা বেগমসহ বাড়ির অন্যান্য মেয়েরা আর বাড়িতে থাকতে পারছেনা।

তাদের দাবি, ঘটনার দায় থেকে পুলিশকে বাঁচাতেই নির্যাতিত নারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হুমকি দেয়া হচ্ছে, মামলা তুলে নেয়ার। সাত দিনের মধ্যে মামলা তুলে না নিলে ভয়াবহ পরিণতির কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলামের নির্দেশে উপ পরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান একদল পুলিশ নিয়ে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের দিরাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের মুকুল মিয়ার বাড়িতে যান। পুলিশ মুকুলকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় মুকুল মিয়াসহ বাড়িতে কোনো পুরুষ ছিলো না। ভ্যানভর্তি পুলিশ বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের গেট খুলতে বলে। তারা গেট খুলতে রাজি না হওয়ায় এসআই ফজলুর রহমান পাশের বাড়ি থেকে লোহার শাবল নিয়ে এসে গেটের তালা ভেঙ্গে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা মুকুল মিয়াকে না পেয়ে সেখানে মহিলাদের বেধড়ক মারপিট শুরু করে।

পুলিশ গৃহবধূ হালিমা বেগমের পড়নের কাপড় ধরে টানা হেচড়া করে এবং তার ব্লাউজ ছিড়ে ফেলে। এসআই ফজলুর রহমান গৃহবধু হালিমা বেগমমের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পুলিশ তার হাতে কামড়িয়ে দেয়। নারীদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পুলিশের সঙ্গে তাদের তর্ক হয়। মামলায় এমন অভিযোগই করেন ওই গৃহবধূ।

পরে গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গাইবান্ধার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপ পরিদর্শকসহ (এসআই) ৪ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানী ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

teletalk

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful