Templates by BIGtheme NET

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই লক্ষ্মীপুরে ড্রেজার মেশিনে বালি উত্তোলন ; ভাঙছে বসতঘর! স্থানীয়রা বিপাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নাব্যতা সংকট নিরসনের নামে লক্ষ্মীপুরে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে খাল খনন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইকবাল হোসেন সেলিম পাটওয়ারী। কোটি কোটি টাকার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে! ওয়াফদার খালে সদর উপজেলার উত্তর হামছাদি ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অংশ থেকে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এতে হুমকির মুখে কয়েকশ একর ফসলি জমি ও বেড়িবাঁধ।
যেকোন সময় তলিয়ে যেতে পারে খাল পাড়ের অর্ধ-শতাধিক বাড়ি-ঘর।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

এদিকে ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষায় স্থানীয়রা একাধিকবার জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও জনপ্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করলে তারা বালু উত্তোলন বন্ধ করার কয়েকদিন পর আবার উত্তোলন করা শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী জড়ো হয়ে বালু উত্তোলনের প্লাস্টিকের পাইপ কেটে দেয়।
এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে বালু উত্তোলনকারী সেলিম এলাকাবাসীকে মামলার ভয়সহ বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।
সর্বশেষ ১৭ মার্চ তিনি ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনের নামে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিন নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ,
বালু উত্তোলনের কারণে খালটি দ্বিগুণ চওড়া হয়ে গেছে।
ভেঙ্গে গেছে খাল পাড়ের বিপুল সংখ্যক গাছপালা, ফসলি জমি, খালপাড়ের বাড়িঘর।
বেড়িবাঁধটিও হুমকিতে রয়েছে।
বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, এতে বাধা দিতে গেলে সেলিম এলাকাবাসীকে মামলা, হামলা দিয়ে হয়রানির করার হুমকি দিয়েছে।
তিনি ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৬ মাসের জন্য খাল পুনঃখননের জন্য চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমতি নেয়।
কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি এখনো অনবরত বালু উত্তোলন করেই চলেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে গত তিন বছরে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে সেলিম মানুষের জমি জবর দখল করে আসছে বলেও জানান এলাকাবাসী।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে,
বোর্ডের কয়েকশ কিলোমিটার খাল আছে কিন্তু টাকার অভাবে তা খনন করা যাচ্ছে না।
অনেক স্থানে খাল ভরাট হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর ইকবাল হোসেন সেলিম পাটওয়ারী নিজ খরচে নাব্যতা সংকট নিরসনে খাল খনন করে পলি মাটি অপসারণ করার জন্য আবেদন করেছিল।
আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে খাল খননের জন্য অনুমতি চেয়ে ঢাকা অফিসে পাঠানো হয়েছে পরে ঢাকা থেকে তাকে খননের অনুমতি দেওয়া হয়।
এজন্য সেলিম বোর্ডকে রাজস্ব অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়েছেন কিন্তু শর্ত ছিল:
‘বালু উত্তোলন করতে গিয়ে আশপাশের ফসলি জমি, বাড়িঘর ও বেড়িবাঁধের ক্ষতি করা যাবে না’

উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) হাফিজ উল্যাহ বলেন:
‘বালু উত্তোলন বন্ধে আমরা কয়েকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি কিন্তু অদৃশ্য কারণে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি, বর্তমানে এলাকাটি হুমকির মুখে আছে।
জনস্বার্থে বালু উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করা হোক’

বক্তব্য জানতে চাইলে উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এমরান হোসেন নান্নু বলেন:
‘বালু উত্তোলন নিয়ে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না, আমার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন সেলিম পাটওয়ারী বলেন:
“আমি চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৬ মাসের জন্য অনুমতি নিয়ে নিজ খরচে বালু উত্তোলন করছি। এতে ফসলি জমি ও এলাকার ক্ষয়-ক্ষতি হলে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখবে আমার করার কিছু নেই”

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন: ‘বালু উত্তোন বন্ধে আমরা চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দুটি চিঠি পাঠিয়েছি কিন্তু তারা বালু উত্তোলন বন্ধ করবে না বলে জানিয়েছে।
বালু উত্তোলনে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা নেওয়া হয়নি। এটি বন্ধ করতে পরে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি’

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন: ‘বালু উত্তোলনে আশপাশের ক্ষতির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি পরে ঘটনাস্থলে আমার লোক পাঠিয়েছি’

স্থানীয় ভুক্তভোগী আবুল হোসেন এর প্রশ্ন ❓ এতোকিছুর পরও কোন খুঁটির জোরে সকল নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে সে এখনো বালু উত্তোলন করেই চলেছে?
আমরা প্রশাসনের নিকট এই ভূমিদস্যু সেলিমের বিচারসহ অচিরেই বালু উত্তোলন বন্ধের জোর দাবি জানাই।

teletalk

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful